করোনা প্রতিরোধে চাই সচেতনতা

  • ৯-মার্চ-২০২০ ০৪:৫৩ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::  

অবশেষে প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শতাধিক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের নামযুক্ত হলো। চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল গত বছরের ডিসেম্বরে। এরপর পর্যায়ক্রমে তা চীনের অন্য রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। গত আড়াই মাসে শুধু চীনেই আক্রান্ত হয়েছে ৮০ হাজারের বেশি মানুষ। মৃতের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে। যা মানবিক বিপর্যয়।  এরপর ধাপে ধাপে বিস্তার ঘটিয়ে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসটি একশ’র বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

করোনা এখন বিশ্বের অনেক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সেসব দেশে মানুষের মৃত্যুও হয়েছে। বাংলাদেশ আতঙ্কে ছিল করোনাভাইসারের প্রকোপ দেখা দেয় কিনা। বর্তমান সময়ে কোন দেশই আর এককভাবে নেই। আমরা গ্লোবাল তথা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ভুক্ত। নগরে আগুন লাগলে যেমন দেবালয় এড়ায় না, তেমনি বিশে^র অন্যদেশে কোন ভাইরাস আঘাত হানলে তার থাবা থেকে আমরা মুক্ত এমনটা ভাবার অবকাশ নেই। এরই ভেতরে দেশে তিন ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় খবর মিলেছে। এই খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অবশ্য আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকাটাই জরুরি। করোনা থেকে কিভাবে রক্ষা পাওয়া যায়, সেই সচেতনতাই এখন বেশি প্রয়োজন। 

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দেশ যথেষ্ট সক্ষম। গত রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘করোনায় উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এই ভাইরাস মোকাবিলায় সরকারে প্রস্তুতি সন্তোষজনক। রোগ প্রতিরোধে সরকার ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। যে কোনো জায়গায় সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।  তবে তিনি সবাইকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা (স্বাস্থ্যবিধি) মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।’

করোনা যাতে কোনোভাবেই বিস্তার লাভ করতে না সেদিকে দায়িত্বশীলদের কঠোর নজর রাখতে হবে। এ বিষয়ে অতীতে আমাদের অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। সরকার প্রধানের নির্দেশ পালনে অনেক অবহেলার বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার মত নয়। এক্ষত্রেও তার প্রমাণ মিলেছে। কারণ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল কোনোভাবেই যেন করোনা দেশে টুকতে না পারে। সে ব্যাপারে তিনি দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই নির্দেশ যথাযথভাবে কার্যকর হয়েছে এমনটি ভাবার অবকাশ নেই। বরং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনেকটাই অবহেলিত হয়েছে। ক্ষেত্র বিশেষ দায়িত্বশীলরা তা প্রতিপালনে ব্যর্থ হয়েছে। এটি ঘটেছে সঠিক নজরদারির অভাবে। আমরা মনে করি মনিটরিংয়ে ছিদ্র থাকার কারণেই দেশ আজ করোনা ভাইরাসের কারায়াত্বে।  

এদিকে এশিয়ায় করোনাভাইরাসের ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে বাংলাদেশ সফর করছেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।  গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, অবশেষে দেশে তিনজন করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্ত  রোগীর সন্ধান মিলেছে। যা সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। গত রোববাব রাজধানীর মহাখালীর আইইডিসিআর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে দুজন পুরুষ এবং একজন নারী। তাদের মধ্যে দুজন সম্প্রতি ইতালির দুটি শহর থেকে দেশে ফিরেছেন। তাদের একজনের সংস্পর্শে আসায় পরিবারের অন্য এক সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের সংস্পর্শে থাকা মোট চারজনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের পজিটিভ এসেছে। অন্যদের নেগেটিভ এসেছে। রোগ প্রতিরোধে অনেক করণীয় রয়েছে। বিশেষ করে এই ধরনের ভাইরাসের প্রতিশেধক না থাকায় নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সচেতনতার বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে করোনা নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুসারে চলতে হবে। 

গণমাধ্যমকে চিকিৎসকরা জানান, অতীতে সোয়াইন ফ্লুসহ বিভিন্ন ভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশ সফল হয়েছে। সুতরাং করোনাভাইরাস মোকাবিলায়ও সফল হবে- এটি প্রত্যাশিত। তবে এ জন্য কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। এ রোগটি মূলত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। সুতরাং আক্রান্ত কাউকে পাওয়া গেলে প্রথমেই তাকে ন্যূনতম ১৪ দিন আলাদা করে রাখতে হবে, যাতে অন্যদের সংস্পর্শে আক্রান্ত ব্যক্তি না যেতে পারে। একই সঙ্গে যারা আক্রান্ত হয়নি, তাদের চলাফেরায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার, বাইরে থেকে বাসায় এসে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলা। এসব নিয়ম মানা যা রোগ মোকাবিলায় অনেকটা সাহস জোগাবে।  স্বাস্থ্য বিধি মেনে চললে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

পরিশেষে আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সরকার এবং চিকিৎসকরা করোনা মোকাবিলায় সর্বশক্তি নিয়োগ করবেন। একই সঙ্গে জনসচেতনা বাড়াতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।  দেশ করোনাভাইরাস মুক্ত করতে মানুষের  ভেতরে দায়িত্ববোধ সম্পন্ন সচেতনতা গড়ে উঠবে এ প্রত্যাশা আমরা জনস্বার্থে করতে চাই। 
 

Ads
Ads