মুজিববর্ষ: প্রধানমন্ত্রীর সঠিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত

  • ১০-মার্চ-২০২০ ০৪:২১ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::  
 
করোনাভাইরাস একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বাংলাদেশেও করোনার থাবায় বেশ কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছেন। দেশ করোনাযুগে প্রবেশ করেছে। এতে দেশের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পথেঘাটে মানুষ মাস্ক পরে চলাফেরা করছে। তবে আতঙ্কিত না হয়ে করোনার ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। করোনা মোকাবিলায় ঢাকায় তিনটি হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা-উপজেলার প্রতিটি হাসপাতালে করোনা ইউনিট খোলা হয়েছে, আলাদা বেড রাখা হয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জনসমাগম এড়িয়ে যাবার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনার কারণে মুজিববর্ষের কর্মসূচিতে কাটছাঁট আনা হয়েছে। জনগণকে ঝুঁকিতে না ফেলে মুজিববর্ষ উদ্যাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি সরকারের দায়িত্বশীলতার পরিচয়। মুজিববর্ষে বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের আসার কথা ছিল। তাদের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও বিষয়টি চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু গোটাবিশ^ই করোনায় আক্রান্ত। ফলে নিজ নিজ দেশে করোনা মোকাবিলা গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদেরকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। তারা এটি সামাল দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আমন্ত্রিত অতিথিরা নিজ দেশের বাইরে যেতে পারছেন না। তাই মুজিববর্ষের আয়োজনে কিছুটা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। বিশে^র বেশ কয়েকটি দেশ অনেক আগেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। বাংলাদেশে অতিসম্প্রতি তিনজন ব্যক্তি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এখবর ছড়িয়ে পড়ায় দেশের মানুষের মধ্যে করোনা আতঙ্ক ভর করেছে। দেশের মানুষকে এই আতঙ্ক থেকে কিভাবে মুক্ত করা যায়, সেটাই সরকারের এই মুহূর্তের ভাবনা। দেশের মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া, তাদের সুস্থ জীবন নিশ্চিত করাই সরকারের মূলভাবনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত সোমবার গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের জরুরি বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে  এই ভাইরাস প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাবিশ্বে যখন করোনা আতঙ্ক বিরাজ করেছে, তখন দেশের সব মানুষের স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখা আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য। সে কারণেই আমরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিয়েছি। এটা নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে, পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ভয়ে আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। গণমাধ্যমের খবর থেকে জানা যায়, করোনার কারণে ১৭ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া ‘মুজিববর্ষের’ কর্মসূচি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। 

এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনে ইতিমধ্যে সরকারি ও দলীয়ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে করোনা নিয়ে বিশ্বব্যাপী একধরনের শঙ্কা সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। করোনাভাইরাস থেকে কিভাবে রক্ষা পাওয়া যায়, এ ব্যাপারে চিকিৎসক-গবেষকরা ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। করোনা বিনাশের সঠিক ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত না হওয়ায় এটি নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গোটাবিশে^ করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা যখন জোরালো হয়ে ওঠে, তখনি প্রধানমন্ত্রী এটি মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগের নির্দেশ দেন। আমাদের প্রত্যাশা, দায়িত্বশীলরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সঠিকভাবে পালন করে জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। তবে এখানে কিছু ঘটনা আমাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। 
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের সচল স্ক্যানারটিও হঠাৎ করেই বিকল হয়ে পড়েছে। গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তিনটি স্ক্যানারের মধ্যে আগে থেকেই দুটি বিকল ছিল। সচল স্ক্যানারটি গত সোমবার রাতে বিকল হয়ে যায়। এতে সাধারণ যাত্রীদের করোনা শনাক্তে এখন হ্যান্ডহেল্ড ইনফারেড স্ক্যানার ব্যবহারের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

করোনা,  জিকা,  ইবোলা ও নিপাহসহ অনেক সংক্রামক ব্যাধির প্রাথমিক লক্ষণ জ্বর। এক্ষেত্রে থার্মাল স্ক্যানার হচ্ছে উপযুক্ত এবং কার্যকর প্রযুক্তি। কোনো স্পর্শ ছাড়াই থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে মানুষের শরীরের তাপমাত্রা নির্ণয় করা যায়। কারও শরীরের তাপমাত্রা বেশি ধরা পড়লেই তাকে পরবর্তী সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে কোনো ভাইরাসে আক্রান্ত কিনা তা নির্ণয় করা সহজ হয়। কিন্তু এখন হ্যান্ডহেল্ড ইনফারেড স্ক্যানার দিয়ে তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে বলে শাহজালাল বিমানবন্দরের একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন। যা অনেকটাই সময় সাপেক্ষ এবং ত্রুটিযুক্ত।  শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে এখনো বহুমানুষ বিদেশ থেকে দেশে ঢুকছে। তার পরীক্ষার সব কটি যন্ত্র অচল হয়ে পড়ার ঘটনাটি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। থার্মাল স্ক্যানার কত দ্রুত সচল করা যায় তার দিকে নজর দিতে হবে দায়িত্বশীলদের। আগেই যখন দুটি থার্মাল স্ক্যানার অচল হয়ে পড়ে তখন কর্তৃপক্ষ কী করছিল সে প্রশ্নটি অত্যন্ত সঙ্গত। কতৃর্পক্ষের এই উদাসীনতা আমাদেরকে বিস্মিত করেছে।  এখন অকেজো থার্মালগুলো দ্রুত  সচল করার পদক্ষেপ নিতে হবে। এবিষয়ে সময় নষ্ট করা মানেই দেশবাসীর স্বাস্থসেবাকে আরও ঝুঁকিতে ফেলা।  সমস্যা সমাধানে কি পদক্ষেপ কর্তৃপক্ষ নিয়েছেন সে বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।  

ঘটনা প্রমাণ করে, করোনার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, তার প্রতি চরম উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে শাহজালাল বিমানবন্দরের দায়িত্বশীলব্যক্তিরা। এদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে আমরা দাবি করি। জাতির জনক এদেশের মানুষকে ভালোবাসতেন। তাই তিনি তাদের সুখ শান্তি স্বাস্থ্য এবং খাদ্য নিরাপত্তার জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। নিজে জেল জুলুম হুলিয়াকে তোয়াক্কা না করে মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করেছেন। দেশকে স্বাধীন করেছেন। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো, ভালোবাসা দেখানো প্রতিটি বাঙালির জন্য অতি আবশ্যক।  

‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনে ইতিমধ্যে সরকারি ও দলীয়ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে করোনা নিয়ে বিশ্বব্যাপী শঙ্কা সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। বিশ্বনেতা-রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই পদক্ষেপকে আমরা সমর্থন করি। তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে যে ভুল করেন না-এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি আবারও তার প্রমাণ রাখলেন। 

Ads
Ads