শ্রীনগরে বন্ধ হচ্ছেনা কোচিং বাণিজ্য

  • ১২-মার্চ-২০২০ ০৮:১৩ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: শ্রীনগর,(মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি ::

সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও আইন অমান্য করে পরীক্ষা চলাকালীন সময়েও শ্রীনগরে বন্ধ হয়নি কোচিং বাণিজ্য। এসব কোচিং বাণিজ্যে এগিয়ে আছে শ্রীনগর সরকারি সুফিয়া এ হাই খান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় শিক্ষকই পরের অবস্থানে আছে শ্রীনগর পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ ।

উপজেলার প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের এমন রমরমা কোচিং বাণিজ্য দেখে প্রশ্ন উঠেছে সরকারি আইন অমান্য করে শতভাগ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা কিভাবে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে? লক্ষ্য করা গেছে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সানাউল্লাহ হক সানি, আহসান হাবিব, মনোয়ার হোসেন, শফিকুর রহমান, আতিকুর রহমানরা প্রতিনিয়ত প্রাইভেট পরাচ্ছেন। এর মধ্যে সানাউল্লাহ হক সানি ও আহসান হাবিব অন্যতম। তারা যেন কারও পরোয়া করেননা।

তাদের সাথে এ বিষয়ে আলাপ হলে এমনটাই বুঝানোর চেষ্টা করেন। তারা বলেন, দেশ ব্যাপী এমন কোচিং চলে। সমস্যা কি? সরকারের প্রচলিত আইনে কোচিং সম্পূর্ণ নিষেধ রয়েছে এমন প্রশ্নেনের জবাবে তারা বলেন, কত আইনই তো হয়। কখনও কোচিং কি বন্ধ হবে?

সানাউল্লাহ হক সানি ও আহসান হাবিব ওই বিদ্যালয় সংলগ্ন নুরুল আমিনের বিল্ডিংয়ে কোচিং করাচ্ছেন। ৩০-৪০ জন শিক্ষার্থীকে এক সাথে গাদাগাদি ভাবে বসিয়ে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। এছাড়াও পাইলট স্কুলের শিক্ষক প্রদিপ সাহা, আব্দুল হালিম, আলতাফ হোসেন উজ্জ্বল,রাম প্রসাদ নন্দী,নিরাশ,খন্ডকালিন শিক্ষক সুপ্রিয়া সুবন্যা, তারা কেউ বাসা ভাড়া করে আবার কেউ মন্দিরের দোতলায় কোচিং করাচ্ছে সরকারি নিষেজ্ঞা অমান্য করে। 

উপজেলার ষোলঘর একে এসকে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আনোয়ার হোসেন, আতাউর রহমান, আব্দুর রশিদ, রাজিব হাসান, মো. মহাসিন, সাইফুল, জাহিদ তারা বিদ্যালয়ের আশ পাশের বাসা বাড়ি ও রাস্তার পাশের দোকানঘর ভাড়া করে রমরমা কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও ভাগ্যকুল হরেন্দ্রলাল স্কুল এন্ড কলেজের তাহিদুল ইসলাম খোরশেদ, উজ্জল তালুকদার, সাঈদ তালুকদার, বিভূতি বসু, সাধন মন্ডল, প্রার্থিব মন্ডল, পিন্টু কুমার দাস, মোকলেছ মোল্লা, তাইজুল ইসলাম, হেলালসহ অনেকেই কোচিং করছেন। বাঘড়া সরূপচন্দ্র পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক তুষার চক্রবর্তী, নুর জামান, ফেরদৌস আলম, আল আমিন মাদ্রাসার শিক্ষক ফয়েজুল রহমান, এনায়েত হোসেন, আবু বখর, ওলিউল্লাহও প্রতিনিয়ত কোচিং চালাচ্ছেন। আরো জানাযায় কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে উপজেলার নামি দামি কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নেতার আদলে এই কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। 

অন্যদিকে হিসাব বিজ্ঞান কোচিং সেন্টারের অনিক সাহা, ইউএসএ এফ-২১ দেলোয়ার হোসেন, অগ্রপথিক কোচিংসহ নামে বেনামে প্রায় অর্ধশতাধিক কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে শুধু শ্রীনগর বাজার ও এর আশপাশের এলাকায়। কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করার জন্য সরকারি আইন ও নীতি মালা অনুযায়ী কোচিং বন্ধের নির্দেশ দেয়াসহ বার বার ঘোষনা আসলেও শ্রীনগরে কোচিং সেন্টার গুলো এখনও বহালতবিয়তে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেই।

লক্ষ্য করা যায়, সকাল, দুপুর ও বিকালে পালাক্রমে চলছে শিক্ষকদের প্রাইভেট পাঠদান। ২০২০ এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন সময়েও সরকারি আইনের তোয়াক্কা না করে শিক্ষকরা দেধারছে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন! খোঁজ খবর নিয়ে আরো জানা যায়, হাঁসাড়া কালী কিশোর স্কুল এন্ড কলেজ, বাড়ৈখালী উচ্চ বিদ্যালয়, বেলতলী জিজে উচ্চ বিদ্যালয়, আলহাজ কাজী ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয়, বাঘড়া স্বরূপচন্দ্র পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, কামারগাঁও আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়, খোদাই বাড়ি নুর জাহান খান উচ্চ বিদ্যালয়সহ উপজেলার প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনও না কোনও শিক্ষকই এ কোচিং বানিজ্য করছেন। এসময় শিক্ষার্থী আবির, শান্ত, রিয়া, মীম, সুমাইয়াসহ অনেকের সাথে আলাপ হলে তারা বলেন, কি করবো কোচিং না করলে পরীক্ষায় পাস করা দুঃস্কর হয়ে যায়। ক্লাসেতো আর সব কিছু পড়ানো হয়না। তাই আমরা কোচিংয়ে পড়ছি।

আবুল হোসেন, রফিকুল ইসলাম, রোকেয়া বেগম, আতিকুর রহমানসহ কয়েজন অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ের পড়া লেখার যে মান সে হিসাব অনুযায়ী অনেকটা বাধ্য হয়েই ছেলে মেয়েদের কোচিংয়ে পড়তে দিতে হচ্ছে। এমনও শিক্ষক রয়েছে তার কাছে প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় ভাল নম্বর পাওয়া যায়না। উপজেলার সরকারি ও এমপিও ভুক্ত প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনও না কোনও শিক্ষক শিক্ষক কোচিং পড়াচ্ছেন। তারা বিদ্যালয়ে ঠিকমত পড়ান না তাদের বেশীর ভাগ দেখা যায় দিনের কয়েক বেসে ২০-৩০ জনকে একত্রে বসিয়ে প্রাইভেট পড়াতে। কোচিং বাণিজ্যকেই তার প্রধান পেশা হিসেবে নিয়েছেন এমনটাই মনে করছেন সুশিল মহল।

এ বিষয়ে একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তারা কোচিং পড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করেন। আবার কেউ কেউ জানান, আমাদের অজান্তে কিছু শিক্ষক তাদের বাসা বাড়ীতে গোপনে প্রাইভেট পড়িয়ে থাকেন। সে ক্ষেত্রে তাদের কিছুই করার থাকেনা বলেন তারা। কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত থাকা প্রায় শিক্ষকই এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। 

সরকারি সুফিয়া এ হাই খান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নূরে আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একাধিকবার আমার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং থেকে বিরত থাকার কথা বলা সত্বেও আমার কথার কোনও কর্ণপাত করেননি। 

এব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সুরাইয়া আশরাফী জানান, সরকারের প্রচলিত আইন ও নীতি মালা অমান্য করে যদি কোনও শিক্ষক কোচিং বাণিজ্য করে থাকেন তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ads
Ads