প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন: আরও বিজয়ে সমৃদ্ধ হোক দেশের ক্রিকেট

  • ১২-মার্চ-২০২০ ০৩:৫২ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::  

গত বুধবার শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বপ্নের এক জয় উপহার দিলো বাংলাদেশের দামাল ক্রিকেটাররা। ব্যাট এবং বলে দাপট দেখিয়ে সফরকারীদেরকে নাস্তানাবুদ করে এই জয় তুলে নিয়েছে মাহমুদুল্লাহ বাহিনী। ভাগ্য পরীক্ষায় জিতে বল বেছে নেওয়া, আবার রান তাড়া করতে লিটনের টর্নেডো ইনিংস সবই ছিল স্বপ্নের মত। এদিন আমাদের নির্ভরযোগ্য ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল বিশ্রামে ছিলেন। তাই অনেকের মনে ভীতি ছড়িয়েছিল। আমরা আজকের ম্যাচ কি আমাদের করে নিতে পারব? এরপর টস জিতে যখন বিপক্ষ দলকে ব্যাটিংয়ে পাঠানো হলো তখনো সন্দেহের কালো মেঘ অনেকটাই ভিড় করে। কিন্তু সবই এক ফুৎকারে উড়ে গেল। যখন টাইগারদের তোপের মুখে সফরকারীরা একে একে সাজঘরে ফিরতে থাকলেন। যদিও সফরকারীদের টেলর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু তা বালির বাধের মতো ধসে গেছে সাইফউদ্দিন, আল আমিন, মোস্তাফিজদের গোলায়। টাইগারদের বোলিং যেমন প্রথম পর্বে চোখ রাঙিয়েছে, তেমনি জবাব দিতে নেমে ব্যাটকে তলোয়ার বানিয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। লিটনের সঙ্গে উদ্বোধনীতে মাঠে নামেন নাঈম। তিনি ব্যক্তিগত ৩৩ রানের মাথায় আউট হয়ে গেলেও থেমে থাকেনি লিটনের তলোয়ার। তার ব্যাট থেকে আসে ৬০ রানের ঝকঝকে এক ইনিংস। বুধবারের জয় মানেই বাংলাদেশের পক্ষে ত্রিমুকুট লাভ। সফরকারী জিম্বাবুয়ের আগে একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত হয়। এরপর তিন ম্যাচে ওডিআই সিরিজে তারা হোয়াইট ওয়াশ হয়। আবার দুই ম্যাচ সিরিজের টি-টয়েন্টির দুটোতেই পরাজিত হলে বাংলাদেশের পক্ষে এই প্রথম ত্রিমুকুট লাভের ঘটনা ঘটে। 

বাংলার টাইগারদের এই সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদেরকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি দলগতভাবে অর্জিত জয়কে আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি অনন্য মাইলফলক হিসাবে বর্ণনা করেন। আগামীতে তিনি ক্রিকেটারসহ অন্যান্য খেলায় জয়লাভ করে দেশের সম্মান বাড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। খেলাধুলার মাধ্যমে দেশ যতটা পরিচিতি পায় অন্য মাধ্যমে তা অনেকটাই সময়সাপেক্ষ। তাই খেলায় সেরা অর্জন সবসময়ই দেশের মুখ উজ্জ্বল করে থাকে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ক্রিড়ানুরাগী। শতকাজের মাঝেও তিনি খেলার বিষয়ে খোঁজ খবর নেন। আবার খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধার দিকে নজর রাখেন। এবারই প্রথম নয়, যখনই বাংলাদেশ কোন বৈশি^ক টুর্নামেন্টে ভালো করে তখনই আমাদের প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে অভিনন্দিত করেন। তাদের জন্য বিভিন্ন পুরস্কারের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা প্রদানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। তিনি দেশের ক্রীড়াকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিজে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন। সুনাগরিক ও সুস্থ জাতি গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম। নৈতিক অবক্ষয়ের এই সংকটকালে একমাত্র খেলাধুলা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার সাহস জোগায়। অস্থিরতার মাঝে একজন দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার ভূমিকা আমরা অনুধাবন করতে পারি। এই অনুধাবন সব চেয়ে বেশি করেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই তিনি খেলাধুলার বিষয়ে সব সময় উৎসাহ দিয়ে থাকেন। যখন আমাদের টাইগাররা পরাজিত হয়ে মুষড়ে পড়ে তখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী তাদের সাহস জোগান। পরাজয় থেকে মেরুদ- খাড়া করে আবার নতুন লড়াইয়ে নামার তিনি স্বপ্ন দেখান। তার দেখানো পথেই আমাদের ক্রীড়াবিদরা সাফল্য বয়ে এনেছেন এমন ঘটনা অনেক রয়েছে। তার আমলেই আমরা যেমন ক্রিকেটে সুনাম অর্জন করেছি, তেমনি তীরন্দাজ রোমান সানাসহ অনেক নতুন নতুন ইভেন্টে আমরা দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছি। প্রধানমন্ত্রী পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি ক্রীড়াবিদদের সকল সুবিধা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাই আজ বাংলাদেশের ক্রীড়াজগৎ বিশ্বে অনেকটাই পরিচিতি পেয়েছে। এমনকি বেশ কিছু ইভেন্টে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা তাদের সক্ষমতা দেখিয়ে  বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন।    
গত বুধবারের এই বিজয়ে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন সময়োপযোগী একই সঙ্গে একজন ক্রীড়ামোদী প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি। তিনি প্রধানমন্ত্রী হলেও যে বিষয়টি তিনি মনে রাখেন সেটি হচ্ছে তিনি জাতির জনকের কন্যা। এই অনুভুতি তাকে এতটাই তাড়া করে যে, তিনি অনেক সময় নিজে প্রধানমন্ত্রী তা নিয়ে ভাবার অবকাশ রাখেন না। তাইতো তার মুখ দিয়ে প্রকাশ পায়, আমি প্রধানমন্ত্রী থাকি না থাকি বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে আজীবন আপনাদের পাশে থাকব। এই কথা কেবলই তাকেই মানায়। যিনি প্রটোকল ভেঙে ভ্যানে চাপেন, শিশুকে বুকে করে টিকা খাওয়ান। আবার  প্রতিবন্ধীদের নিয়ে খোশআলাপে মেতে উঠতে পারেন। তার কষ্ট হয়না গ্রামের অতি সাধারণ একজন বৃদ্ধাকে জড়িয়ে ধরে তার সুখ-দুঃখের কথা শুনতে। সাধারণ অতি সাধারণ মানুষের আপনজন প্রধানমন্ত্রী তাই বাংলার সব ভালোর সঙ্গে এভাবেই মিশে যেতে পারেন। 

খেলাপ্রিয় প্রধানমন্ত্রীর এই অভিনন্দন বাংলার খেলাধুলাকে আরও সমৃদ্ধ করুক। সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাক, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের খেলোয়াড়রা তাদের সব মেধা ঢেলে দিক। অভিনন্দন বার্তার জবাব হোক আরও অনেক বিজয়, অনেক আনন্দ, উল্লাস আর উচ্ছ্বাস। যার অপেক্ষায় প্রধানমন্ত্রীসহপুরো বাংলাদেশ।    

Ads
Ads