গ্রেনেড হামলা নিয়ে একি বলছে বিএনপি!

  • ২৭-Aug-২০১৮ ০৬:০০ অপরাহ্ন
Ads

১৪ বছর আগে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান জড়িত বলে অভিযোগ তুলেছে ক্ষমতাসীনরা। তবে তাদের এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, দুরভিসন্ধিমূলক এবং মামলায় রায়কে প্রভাবিত করবে বলে মনে করছে বিএনপি।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিষয়ে বিএনপির ভাষ্য, আওয়ামী লীগ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনীতি করছে। তাদের আন্দোলনের ফসল মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের সময়ও এ মামলার অভিযোগপত্রে তারেক রহমানের নাম ছিলো না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাদের দলীয় লোক কাহার আকন্দকে তদন্তে কর্মকর্তা নিয়োগ দেন। যিনি পুলিশের চাকরি থেকে অবসরে গিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। এমনকি ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যই তাকে পুলিশ বিভাগে ফের নিয়োগ দিয়ে, ২০০৯ সালে এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা করা হয়। দলীয় তদন্ত কর্মকর্তা কাহার আকন্দকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যই ছিল, এ মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো। পরে ২০১১ সালে তারেক রহমানের নাম সম্পূরক চার্জশিটে অর্ন্তভূক্ত করে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হয়।

দলটি আরো বলছে, বিএনপি সরকারের আমলে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্তে ইন্টারপোল, এফবিআইকে দেশে নিয়ে আসা, মুফতি হান্নানসহ সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, সিআইডি, ডিবিসহ পুলিশের বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করা, হাইকোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এসব কিছু প্রমাণ করে যে, প্রকৃত ঘটনা ও অপরাধীদের শনাক্ত করার বিষয়ে তৎকালীন বিএনপির সরকারের আন্তরিকতা ও স্বচ্ছতার অভাব ছিলো না।
 
তবে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,  এই যে হত্যাকাণ্ডের চেষ্টা। এর সাথে বিএনপি একেবারে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান যে জড়িত, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় একটি ‘ফরমায়েশি রায়’ হতে যাচ্ছে- বলে মনে করে বিএনপি।

এবিষয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান সরকার গোটা বিষয়টাকে তাদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন ও দুর্বল করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। এজন্যই দলীয় ব্যক্তিকে (কাহার আকন্দ) তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে মামলার অন্যতম আসামিকে (মুফতি হান্নান) দিয়ে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করেছে। যা প্রত্যাহার করে মুফতি হান্নান সরকারের ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দিয়েছে। এখন তারা (সরকার) বিচার বিভাগকে দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ইচ্ছাপূরণের অপচেষ্টায় রত হয়েছে।

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় হলে সঙ্কটে পড়বে বিএনপি। তার এ বক্তব্য রায়কে প্রভাবিত করার জন্যই বলে মনে করছে বিএনপি। এছাড়া মামলার রায় নিজেরা লিখে তা আদালতকে দিয়ে বাস্তবায়ন করানো হবে-তা নিয়েও আশঙ্কা  প্রকাশ করেছে দলটি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের সাহেবরা একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে প্রভাবিত করতেই বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানেক নিয়ে বেসামাল বক্তব্য রাখছেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে এ জাতীয় বক্তব্য সুদূর প্রসারি ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিতবাহী।

অপরদিকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে বিচারিক আদালত থেকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় আসবে। এই বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কোন মামলার রায় কবে হবে, এটা এখন বিচারকগণ নয়- দেশের আইনমন্ত্রী স্থির করেন।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় দলটির কেন্দ্রীয় নেত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সেদিন বেঁচে গেলেও স্থায়ীভাবে তার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

Ads
Ads