ঝিকরগাছায় বৃক্ষচারা উৎপাদন আশাব্যঞ্জক লাভের আশায় উদ্যোক্তা নার্সারি মালিকেরা

  • ৩১-Jul-২০১৮ ০৬:০০ অপরাহ্ন
Ads

যশোরের ঝিকরগাছায় চলতি মৌসুমে বৃক্ষচারা উৎপাদন আশাব্যঞ্জক হয়েছে। ফলে লাভের আশায় করছেন উদ্যোক্তা নার্সারি মালিকরা। উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে এবারের তিনদিনের কৃষিমেলা-২০১৮ জমে উঠেছে। বৃক্ষচারা উৎপাদনকারি নার্সারি মালিকেরা মেলায় বিভিন্ন স্টলে প্রদর্শনীতে দেশিবিদেশী ফলদ, বনজ ও ঔষধি চারার সমাহার ঘটিয়েছেন। মেলায় উৎসুক বৃক্ষপ্রেমী ক্রেতা সাধারণের পাশাপাশি স্কুল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভিড় করতে দেখা যাচ্ছে। তবে মেলার দ্বিতীয় দিনে বৈরি আবহাওয়ার কারণে স্টলগুলোতে প্রায় ক্রেতাশুন্য দেখা গেছে।
 
মেলায় এবারের আকর্ষণ ছিলো থাই ও ভারতীয় বর্ধনশীল জাতের বেল। দুটিবেল যার প্রতিটির ওজন ১১/১২ কেজি। বিলেতি গাব, আপেল, স্ট্রবেরী, কামরাঙ্গা, লটকন, কদবেল,  দর্শনার্থীদের  প্রদর্শনীতে নজরকাড়ে। মেলায় বিভিন্ন উন্নত জাতের আম যেমন, হাড়িভাঙ্গা, ফজলি, হিমসাগর, ল্যাংড়া, মল্লিকা, গোবিন্দভোগ, নিলম্বরী, তলাবোম্বাই, বেলখাস, গোলাপখাস প্রভৃতিসহ বনজ ও ফলজবৃক্ষ মেহগনি, লম্বু, সেগুন, রেইন্ট্রি, কাঁঠাল, জাম, জামরুল, থাইজামরুলের দেখা মিলেছে। ওষধিবৃক্ষ লজ্জাবতি, নিম, হরিতকি, বহেড়া, আমলকি, তেঁতুলসহ নানা জাতের বাহারী বৃক্ষচারা প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। ফলজবৃক্ষের মধ্যে আমড়া, সফেদা, পেয়ারা, তাল, ডালিম, জলপাই, লিচু, কদবেল, নারকেলকুল, আপেলকুল, বাউকুল, নাইনটিসহ দেশি কুলের সমাহারের পাশাপাশি নারকেল, সুপারি, কাগজিলেবু, বাতাবিলেবু, শরবতিলেবু, পাতিলেবু ছাড়াও মাল্টা, কমলালেবুসহ বিভিন্ন বনসাঁই ক্রেতাসাধারণের দৃষ্টি কেড়েছে। 

এবারের কৃষিমেলায় উল্লেখযোগ্য স্টল গুলোর মধ্যে মৌসুমি নার্সারী, রুমাজয় নার্সারী, কষ্ট নার্সারী, আবিদ নার্সারী, সর্দার নার্সারী, রংধনু ও অনন্য নার্সারী। উদ্যোক্তা নার্সারী মালিকদের দাবি, এবছর প্রতিটি বৃক্ষচারা ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। প্রতিটি উন্নত জাতের আম ১৫০/২০০ টাকা, লিচু চাইনা থ্রি,টু ও মোজাফ্ফর জাতের প্রতিটি ২০০/২৫০ টাকাসহ মেহগনি, লম্বু, সেগুন, রেইন্ট্রি, কাঁঠাল, জাম, জামরুল প্রতিটির প্রকার ভেদে দাম ৪০/৫০ টাকা।

প্রদর্শনীতে উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের কৃষক মোবারক হোসেন উন্নত জাতের ভারতীয় ও লাউজনী নওদাপাড়া গ্রামের লিটনমিয়া বিশালাকৃতির দুটিবেল প্রদর্শনীতে হাজির করেছেন।

ঝিকরগাছা উপজেলায় বৃক্ষচারা উৎপাদনে এগিয়ে রয়েছে পানিসারা, নির্বাসখোলা, নাভারণ, গদখালী, বাঁকড়া ও ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়ন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তত্বাবধানে একটি সরকারী উদ্যান বা নার্সারীর পাশাপাশি উপজেলায় দেড়শাতাধিক ছোট বড় নার্সিরী বা চারা উৎপাদন খামার রয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাহিদুল ইসলাম এবারের মেলার আয়োজন সর্ম্পকে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সকল জনপ্রতিনিধি ও নার্সারী উদ্যোক্তাসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সর্বসাধারণের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও সাড়া পেয়েছি। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী ৩০লাখ বীর শহীদের স্মৃতির স্মরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দেশব্যাপি ৩০ লাখ বৃক্ষচারা রোপণের কর্মসূচি সফল ও সার্থক হবে আশা করছি। 

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ দিপঙ্কর কুমার দাশ কৃষিমেলার সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এবারের মেলায় থাইলেবু, মিষ্টি কামরাঙ্গা, ফিটলেসলেবু (বিচিবিহীন)সহ এই ধরণের ফলদ বৃক্ষের চাহিদা ক্রেতাদের মাঝে বেশি দেখা গেছে। তিনি বলেন, মেলার দ্বিতীয় দিন কিছুটা বৃষ্টিবিঘিœত হওয়ার ফলে প্রদর্শনী আরো তিনদিন বৃদ্ধি করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি।

Ads
Ads