সান্তাহারে শখের পল্লী বিনোদন কেন্দ্র স্থানান্তরের দাবী এলাকাবাসির

  • ১১-Aug-২০১৮ ০৬:০০ অপরাহ্ন
Ads

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের একটি বিনোদন কেন্দ্র স্থানান্তর অথবা বন্ধ করার জন্য এলাকাবাসি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বরাবর আবেদন করেছেন। আবেদন পত্রে শখের পল্লী নামের ওই বিনোদন কেন্দ্রে অসামাজিক কর্মকান্ডসহ নানা প্রকার আইন শৃংখলা বিরোধী কাজ হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসির পক্ষ থেকে বিনোদন কেন্দ্রের মালিক নজরুল ইসলাম কে সতর্ক করার পরও তিনি কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে অবাধে বিনোদন কেন্দ্র চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকাবাসির আবেদনের প্রেক্ষিতে বিভাগীয় কমিশনার এ বিষয়ে তদন্তের জন্য আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় দেড় বছর আগে পৌর এলাকার বশিপুর গ্রামের জনৈক নজরুল ইসলাম গ্রামের মাঝে আবাসিক এলাকায় “শখের পল্লী” নামের ওই বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলেন। বিনোদন কেন্দ্র গড়ে ওঠার প্রথম দিকে তেমন দর্শনার্থীর সমাগম না হলেও সম্প্রতি সেখানে নানা ধরনের অসামাজিক কর্মকান্ডের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল পরিমান উঠতি বয়সের যুবক যুবতীর সমাগম ঘটে। পিকনিকের নামে ওই বিনোদন কেন্দ্রে দিনভর চলে নাচ গান ও অশ্লীল কর্মকান্ড । একাধিক মাইকের শব্দে গ্রামের মানুষ চরম বিপাকে পড়েন।

মসজিদের মুসল্লীরা তাদের অভিযোগে জানান, নামাজের সময় ও মাইক বন্ধ রাখা হয় না, এতে করে নামাজের বিঘœ ঘটে। এ ছাড়া আলাদা কোন রাস্তা না থাকায় গ্রামের সরু রাস্তা পিকনিকে আসা যানবাহন দিয়ে আটকে থাকায় গ্রামবাসির চলাচলে চরম বিড়ম্বনা ঘটে। এদিকে পিকনিকে আসা বিপুল পরিমান দর্শনার্থীর খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশ ও থালা, গ্লাস আশপাশের জমি ও খালে ফেলে রাখায় চরম দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়ে পরিবেশ দূষিত হয়।

কয়েকজন কৃষক জানান, খাবারের প্লেট সহ অব্যবহৃত জিনিসপত্র ধানের জমিতে ফেলার কারনে ফসলের ক্ষতি হয়। বিনোদনকেন্দ্রের বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে এলাকার একাধিক জন-প্রতিনিধি গত বৃহস্পতিবার আদমদীঘি উপজেলা আইন শৃংখলা বিষয়ক সভায় ওই কেন্দ্র স্থানান্তর অথবা বন্ধের দাবি জানান। একই সাথে গত ১৯ এপ্রিল সান্তাহার পৌরসভার মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের নিকট বিনোদন কেন্দ্রটি বন্ধ বা স্থানান্তরের জন্য সুপারিশ করে চিঠি পাঠান।

সান্তাহার পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের কমিশনার ও প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব মজিবর রহমান বলেন, এই বিনোদন কেন্দ্রটি আমার ওয়ার্ডে অবস্থিত। একটি গ্রামের মাঝে এ ধরনের বিনোদন কেন্দ্র গড়ে ওঠায় গ্রামবাসি চরম বিপাকে পড়েছেন। এখানে নানা অসামাজিক কর্মকান্ড ঘটার পাশাপাশি একাধিক দাঙ্গা হাঙ্গামার ঘটনা ঘটেছে। এ সকল ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলাও হয়েছে।

এ ব্যাপারে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদেকুর রহমান বলেন, এলাকাবাসির আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই বিনোদন কেন্দ্রে তদন্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে অচিরেই তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হবে। এ বিষয়ে সখের পল্লীর স্বর্তাধীকারী নজরুল ইসলাম বলেন, যে সকল অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে সম্পূর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

চাঁদা চেয়ে না পাওয়ার কারনে অভিযোগকারীরা এ ধরনের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, তিনি ও তাঁর কেন্দ্রের স্বচ্ছতা নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন।

Ads
Ads