প্রায় ১ বছরেও বের হলনা মেয়র রুকন নিখোজের রহস্য

  • ১৬-Aug-২০১৮ ০৬:০০ অপরাহ্ন
Ads

‘নিখোঁজ’ অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।

বিশেষ করে নিখোঁজদের মধ্যে থেকে অনেকে রহস্য রেখে নিরবে বাড়ি ফিরে ‘মুখে তালা’ দেয়ায় গুঞ্জনের ডালপালা ছড়ায়। অনেকে আবার ব্যক্তিগত বিরোধে আত্মগোপন করে পুলিশি অভিযানে উদ্ধার হন। ২০১৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাত ৯.১৩টায় রুকুনুজ্জামান তাঁর ফেসবুকে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন।

স্ট্যাটাসের একাংশে তিনি লিখেন- “নতুন প্রজন্মের কাছে আমার আহবান যে, আমাকে হত্যা করা হলেও তোমাদের সিক্ত ভালবাসা যেন অটুট থাকে এবং আমার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা তোমরা ধরে রাখবা”।

এ ছাড়া মেয়র নিজেও এ ধরনের নাটক সাজাতে পারেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। এর আগেও ২০১২ সালে তিনি একবার অপহরণের নাটক করেছিলেন। স্ট্যাটাসের পরদিন ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে ‘উত্তরা ৭নং পার্কে জরুরী কাজ আছে’ বলে একাই হেটে বের হন।

এ সময় পৌরসভার অফিসিয়াল মোবাইলটিও রেখে যান। বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ হন মেয়র রুকন। সন্ধ্যায় মেয়র রোকুনুজ্জামান রোকন নিখোঁজ দাবি করে মেয়রের বড়ভাই সাইফুল ইসলাম সোমবার উত্তরা (পশ্চিম) থানায় জিডি করেন। জিডি নং- ১৬১১ তাং-২৫-৯-২০১৭।

এদিকে মেয়র রুকুনুজ্জামানের নিখোঁজের ঘটনাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনে তোলপাড়ের সৃষ্টি করেছিল। তাঁকে উদ্ধারে পুলিশসহ র‌্যাব ও গোয়েন্দা বিভাগ তৎপরতা চালিয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর মেয়রের দ্বিতীয় স্ত্রী উম্মে হাবিবা মৌসুমী, মেয়রের পোশাক কারখানা দেখভালের কাজে নিয়োজিত মিশু, মেয়রের গানম্যান শিহাব উদ্দিন এবং গাড়িচালক আবু সাঈদকে সারাদিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ১১টার দিকে তাদের ছেড়ে দেয় র‌্যাব । ২৭ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুরে ঢাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া পৌরসভার মেয়র রুকুনুজ্জামাননের সন্ধান মিলল শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালীঘাট ইউপি পরিষদ। পরিষদের সচিব মিল্লাত আলী শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানা পুলিশকে সংবাদ দিলে মেয়রকে উদ্ধারের পর রাতে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে নেয়া হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে (ডিবি)।

এ ছাড়া মেয়র নিজেও এ ধরনের নাটক সাজাতে পারেন বলে একাধিক সুত্র বলছে।ইতিপুর্বেও ২০১২ সালে তিনি একবার অপহরণের নাটক করেছিলেন। উদ্ধারের প্রায় ১ বছর অতিক্রম করলেও প্রশাসন এ ঘটনার কোনো কুলকিনারা করতে পারেনি।

রুকুনজ্জামান রোকন নিখোজের ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনার রহস্য জানতে চায় সরিষাবাড়ী পৌরবাসী ,কর্মকর্তা/কর্মচারী ,রাজনৈতিক সংগঠন ও সচেতন মহল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পুলিশের ঢাকা রেঞ্জ পুলিশসহ জামালপুর জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সু-দৃষ্ঠি ও অতি শ্রীঘ্রই বিস্তারিত ঘটনার রহস্য জন সম্মুখ এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল ।

প্রকাশ থাকে যে, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগরের সঙ্গে তার চলচ্চিত্র ব্যবসায়িক পার্টনারশীপ রয়েছে। চলচ্চিত্র জগতে চলাফেরার কারণে কয়েকজন মডেলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ প্রেম,ভালবাসা ও শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

মেয়রের প্রথম স্ত্রী সরিষাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা কামরুন্নাহার হ্যাপী । কোটি টাকার কাবিনে দ্বিতীয় স্ত্রী উম্মে হাবিবা মৌসুমীকে বিয়ে করে রুকন। কোটি টাকার কাবিনে মৌসুমীকে বিয়ে করার পেছনে টুকন এবং তার স্ত্রী কলকাঠি নেড়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রী এক প্রবাসীকে বিয়ে করে তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা বাগিয়ে নিয়ে রুকনকে বিয়ে করেন। মৌসুমীকে বিয়ের পর এ নিয়ে পারিবারিক ঝামেলাও চলছিল। এ নিয়ে সরিষাবাড়ীতে নানান কথা চালু আছে। বক্তব্যের ব্যাপারে পৌর মেয়র রুকন এ প্রতিবেদক মাসুদুর রহমানের কাছে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

Ads
Ads