শ্রীনগরে স্বাস্থ্য ঝুকিতে এলাকাবাসী 

  • ৯-Sep-২০১৮ ০৬:০০ অপরাহ্ন
Ads

:: শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি :: 

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে এলজিইডি’র একটি সরকারী রাস্তা দখলসহ কেঁটে  নির্মাণ করা হয়েছে একাধিক গরুর খামার। এই খামার গুলোর বর্জ্য অপসারণের জন্য এলজিইডি’র রাস্তা কেটে তৈরী করা হয়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা। এর পাশাপাশি রাস্তার উপর গরুর বর্জ্য স্তুপ করে রাখার কারণে স্বাস্থ্য ঝুকিতে রয়েছে এলাকাবাসী। 

গত ৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এসব চিত্র। উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নের মধ্য কামারগাঁও অবস্থিত নার্সিং ইনষ্টিটিউটের কাছে খাল পাড়ের সরকারী পাকা রাস্তার উপরে অবৈধ ভাবে গড়ে তোলা  হয়েছে একাধিক গরুর খামার। পাশাপাশি কয়েকটি বাড়ীর গরুর খামার থেকে বর্জ্য ফেলে একদিকে যেমন এলজিইডির পাকা রাস্তার ক্ষতি করা হচ্ছে অপরদিকে বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দুষিত হচ্ছে। পাকা রাস্তাটির পাশেই একটি সরকারী গভীর নলকুপ রয়েছে।

নলকূপের চারদিকে বর্জ্যরে নোংরা ময়লা পানি জমে রয়েছে। ওই টিউবওয়েলের পানি পান করে গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুকিতে। এছাড়া খামারীরা পাকা রাস্তা কেঁটে তাদের খামারের যাবতীয় নোংরা ময়লা আবর্জনা নামাচ্ছে। আশেপাশে খোজ নিয়ে জানা যায়, সামান্য বৃষ্টি হলেই খামারের নোংরা পানি জমে রাস্তায় জনসাধারণের চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতে করে ঐ রাস্তা দিয়ে পথচারীদের চলাচলে বেশ দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে । এছাড়া জমে থাকা নোংরা পানিতে জন্ম নিচ্ছে বিষাক্ত মশা-মাছি। ছড়াচ্ছে ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া, ডেঙ্গুসহ নানা ধরনের অসুখ-বিসুখ। এ কারণে আশপাশের মানুষের চলাচলসহ বসবাস করা হয়ে উঠেছে দুর্বিসহ। 

এ বিষয়ে ঐ এলাকার ভুক্তভোগীদের মধ্যে রাবেয়া বেগম, আঃ বাতেন, পাপিয়া রানী, যতিন্দ্র, নিরঞ্জন মন্ডল, টুটুল মন্ডল, কুদ্দুস খানসহ অনেকেই জানান, রাস্তার পাশে গরুর ফার্ম করে বর্জ্য অপসারণের জন্য ড্রেনেজ করা হলেও  নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ঐ বর্জ্য স্তুপ আকার হয়ে থাকে। এর ফলে দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ নষ্টের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পরেছে আমাদের এলাকাটি। তারা আরো বলেন, এ বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে মৌখিক ও লিখিত ভাবে অভিযোগ  করেও কোন কাজ হয়নি। 

এ বিষয়ে খামার মালিক ইদ্রীস খাঁন (৬৫), কুদ্দুস খাঁন (৬০) ও সিদ্দিক খাঁন (৪৫) তাদের কাছে সরকারী রাস্তা কাটা, রাস্তার উপরে খামার নির্মাণ ও বর্জ্য ফেলার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, এক সময় পরিস্থিতি এমন ছিলনা। আমাদের জায়গার অভাব তাই রাস্তার পাশে খামার নির্মাণ করেছি সমস্যা কোথায়। রাস্তার পাশে বর্জ্য রাখায় পরিবেশ দুষিত হচ্ছে এটা ঠিক তবে কি করবো। টিউবওলের চার পাশে বর্জ্যরে নোংরা ময়লা পানি জমে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা আরো বলেন, এই কলের পানি পান করতে আমাদেরও সমস্যা হয়। অনেকেই এই কারণে পানি পান করা ছেড়ে দিয়েছে। রাস্তা কেটে বর্জ্য ফালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, রাস্তাটি আমরা কাটিনি রাস্তা কেটেছে পাশের খামার মালিক আনন্দ ঘোষ (৪৫)। 

খামারী আনন্দ ঘোষ বলেন, কি করবো এক সময় এখানে খাল ছিল। কিছু লোক খালে বালু ভরাট করে ফেলায় আমাদের এই সমস্যা হয়েছে। খাল থাকলে এই ধরনের সমস্যা হত না।

এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান কাজী মনোয়ার হোসেন (শাহাদাত) বলেন, বিষয়টি লোকজন আমাকে জানিয়েছে। কিন্তু নানা জটিলতা থাকায় আমার পক্ষে হস্তক্ষেপ করা সম্ভব হয়নি। 

উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান বলেন, সরকারী রাস্তা কেটে কেউ নষ্ট করলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা সেনেটারী ইন্সপেক্টর নাসরিন সুলতানা বলেন, এটা পরিবেশ অধিদপ্তরের  বিষয়, তারপরেও আমি নোটিশ করেছিলাম তারা গ্রহন করেননি।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বায়ো গ্যাস সিস্টেম ও পরিবেশ সার্টিফিকেট ছাড়া কোন গরুর খামার বৈধ হতে পারে না। এলাকাবাসীর অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরুপ এমন কোন কিছুই আমরা বরদাস্ত করবো না। তদন্ত সাপেক্ষে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Ads
Ads