পূর্ণ সংস্কার আনা হোক বেহাল পরিবহন খাতে

  • ১-Aug-২০১৮ ০৬:০০ অপরাহ্ন
Ads

এটা এখন আর কাউকে চোখে আঙুল না দেখিয়ে বলা চলে যে, বর্তমানে রাতারাতি বিপুল টাকা বানানোর হাতিয়ার হচ্ছে পরিবহন খাত। সড়কপথে যেমন বাস নৌপথে তেমনি লঞ্চ-স্টিমার। লঞ্চ-স্টিমারেও রাতারাতি বিপুল টাকা বানানোর উপায় আছে বলেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তনয় আরাফাত কোকো তার নামে অনেকগুলো লঞ্চ-ইস্টিমার ভাসিয়েছিলেন নৌপথে। সড়কপথই হোক আর নৌপথই হোক উভয় পথই আজকাল পূর্ণ দখল নিয়ে বসে আছে রাজনৈতিক দলের নেতারাই। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখন সে দল এই সড়কপথ ও নৌপথের কর্তৃত্ব জাহির করে। দখন করে নেয় প্রায় সব পরিবহন ও লঞ্চ-ইস্টিমার। আর এই উভয় পরিবহন খাতেই আছে বিপুল চাঁদাবাজি। এই চাঁদাবাজি করে রাজনৈতিক দলের লোকজনই। চাঁদার সিংহভাগ টাকাই চলে যায় দলের ওপরঅলাদের কাছে।

অর্থাৎ এই পরিবহন খাত যে এখন আর জনগণের হাতে নেই সবই চলে গেছে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের কব্জায় তা গতকাল একটি গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে জনগণের জন্য যে পরিবহন তা কি ওই স্বার্থান্বেষী মহলের কব্জাতেই থেকে যাবে নাকি তা জনগণের হাতে পুনরায় ফিরে আসবে। আর গতকাল এসব প্রশ্নকে সামনে রেখেই জনগণের পক্ষ থেকে নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন এক আইনজীবী। যেখানে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, মন্ত্রী হয়েও তিনি কেন পরিবহন সংগঠনের নেতৃত্বে? এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সরকারের মন্ত্রী হয়েও কীভাবে তিনি একটি বিশাল দৈত্যাকার লাভজনক খাতে বহালতবিয়তে থাকতে পারেন? তখন এই পরিবহন খাত কি সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারবে নাকি জনগণের নিয়ন্ত্রণে।

এখানে এই ‘ব্যক্তি স্বার্থ’ কি কখনো জনগণের পক্ষে থাকতে পারে নাকি তা আদৌ সম্ভব? কাজেই জনগণের সেবায় নিয়োজিত এই পরিবহন খাতে যতো দ্রুত সম্ভব সংস্কার আনা জরুরী হয়ে উঠেছে বলে আমরা মনে করি। আমরা আরো মনে করি যে, এই পরিবহন খাতে আজ ব্যক্তি স্বার্থ বড় হয়ে উঠেছে বলেই এই খাতটিকে ঘিরে এতো নৈরাজ্য আর বিশৃঙ্খলা চলছে। এই নৈরাজ্যের জন্যই বিশে^ সবচেয়ে ঘনবসতির মহানগরী প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছে পরিবহন খাতে ব্যবস্থাপনা না থাকা ও শৃঙ্খলার অভাবে। এর নিরসনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও কখনোই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি মহাপরিকল্পনায় বাস খাত সংস্কারে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশটিও আজও পর্যন্ত আলোর কোনো মুখ দেখতে পারেনি।

এর পেছনে ওই মুনাফালোভী মালিক ও চালকদের পক্ষ প্রভাবশালী স্বার্থান্বেষী মহলের নেপথ্য প্রভাবেই এটি ঝুলে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে, এই সমস্যাটিও অনেক গভীরে। এর পেছনে কাড়ি কাড়ি টাকার এতই স্বার্থ জড়িত যে, সংশ্লিষ্টরা সহজেই হাল ছাড়তে চাইবে না। কারণ এর সঙ্গে মন্ত্রী জড়িত,  এমপি জড়িত, পাতি নেতাসহ অনেক বড় বড় নেতাও জড়িত। এরই মধ্যে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের ৯ দফাই সরকার নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছে। আমরা মনে করি, এর পাশাপাশি গোটা বাসখাতকেই সংস্কার করা অত্যাবশ্যক। কেননা, আজ বাসখাতকে ঘিরে এতো যে নৈরাজ্য এর পেছনেই মূল দায়ী ওই যে এই খাতকে ঘিরে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার মতো কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। শুধু টাকাই নয় এর আগে এতে আরেকটি শব্দ প্রয়োগ করতে হয় সেটি হচ্ছে, অবৈধ টাকা। আর তাই সকল নৈরাজ্যের মূল এই অবৈধ টাকার রমরমা উৎস বন্ধ করতে হলে শিগগিরই এই বাসখাতে পূর্ণ সংস্কার আনতে হবে।

Ads
Ads