মার্শা বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলা কীসের ইঙ্গিত?

  • ৫-Aug-২০১৮ ০৬:০০ অপরাহ্ন
Ads

সরকারকে চরম বেকায়দার মধ্যে ফেলার জন্য একটি হীনপ্রচেষ্টা ফের ব্যুমেরাং করে দিল দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত শনিবার রাতে বাংলাদেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের বিদায় উপলক্ষে সুশাসনের জন্য নাগরিক ‘সুজন’ এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের বাড়িতে এক নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত যখন মি. মজুমদারের বাসা ত্যাগ করছিলেন তখন কয়েকজন দুর্বৃত্ত রাষ্ট্রদূতের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোঁড়ে।

হামলাকারীরা রাষ্ট্রদূতের গাড়ির পেছনে ধাওয়া করে ঢিলও ছোড়ে। এই ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে ক্ষমতাসীন দল ও মাঠের বিরোধীদলের মধ্যে। যদিও নিরাপত্তার বাহিনীর দুটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ছাড়া মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় কেউ আহত হয়নি, তারপরও এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে যে, সুযোগসন্ধানীরা কীভাবে ঘোলা পানিতে তাদের মাছ শিকারের পাঁয়তারা করেছিল। এরকম এর আগেও বার্নিকাটের আগের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার গাড়ি বহরেও এই একই ঘটনা ঘটেছিল। তখনও এই একইভাবে সেই হামলা ব্যর্থ করে দিয়েছিল সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাই পুলিশের দ্রুতগতিতে সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। এই কথা ঠিক যে, সেই সময়কার ড্যান মজিনার নানা বক্তব্য সরকারকে একটা অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার মধ্যদিয়ে যেতে হয়েছিল।

বর্তমান রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যও সরকারকে একটা বিব্রতকর অভিজ্ঞতার মধ্যে ফেলে। ফলে সেবারের মতো এবারও সেই একই কুচক্রী মহলটি মার্শা বার্নিকাটের গাড়ি বহরে হামলা চালিয়ে সরকারকে মার্কিন সরকারের কাছে একটা কৈফিয়তের মুখে দাঁড় করিয়ে দিতে চেয়েছিল। যাতে দুদেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয়, এই কুচক্রী মহলের হয়তো আরো বড়সড় হীন উদ্দেশ্য ছিল। তারা চেয়েছিল দেশে একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে। কিন্তু তারা আবারও ব্যর্থ হলো।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে এদের কোনো ষড়যন্ত্রেই বিচলিত হন না বরং নতুন উদ্যমে আরো এগিয়ে যান এবারও তার নজীর পাওয়া গেল। বিএনপি-জামায়াত চক্র মনে করেছিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরো দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং তাতে তাদের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। কিন্তু তার কোনোটাই হয়নি। শিক্ষার্থীরা গতকাল থেকেই ঘরে ফিরে গেছে। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চৌকস নেতৃত্বের কাছে তারা বারবার ব্যর্থ হয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দেখে সরকারের মধ্যেও অনেকে যারা বিচলিত হয়ে পড়েন তাদের উদ্দেশে গতকাল মন্ত্রিসভায় তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, ‘দুর্বলচিত্তের লোক দিয়ে কি চলে’? এতেই বোঝা গেল প্রধানমন্ত্রী কিছুতেই ‘দুর্বল চিত্তের’ নন, বরং কঠিন পরিস্থিতে তিনি আরো বেশি সাহসী হয়ে ওঠেন ঠিক তার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো।

এখন কারা কাদের তত্ত্বাবধানে বা অঙ্গুলি হেলনে রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের গাড়ি বহরে হামলা চালালো তাদের শিগগিরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করবে এবং তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে বলে আমরা আশাবাদী।

Ads
Ads