সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া সবার মত নিয়েই চূড়ান্ত করা হোক

  • ৬-Aug-২০১৮ ০৬:০০ অপরাহ্ন
Ads

স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের টানা এক সপ্তাহ আন্দোলনের মধ্যেই গত সোমবার মন্ত্রিসভা সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮-এর খসড়া অনুমোদন দিল। প্রস্তাবিত আইনে বেপরোয়া বা খামখেয়ালিভাবে গাড়ি চালানোর পরিণতিতে ঘটা দুর্ঘটনায় কেউ আহত কিংবা মৃত্যু হলে চালকের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তবে তদন্ত পর্যায়ে যদি প্রমাণিত হয় যে, চালক ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যাকা- ঘটিয়েছেন, তাহলে দণ্ডবিধি ৩০২ এবং ক্ষেত্রমতো ৩০৪ আইন প্রযোজ্য হবে, যেখানে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। এ আইনের খসড়ায় গাড়ির ফিটনেস, চালকদের শিক্ষাগত ও অন্যান্য যোগ্যতাসহ আরও কয়েকটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরও কিছু নির্দেশনা রয়েছে; যেমন- গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা, চালকের সিটবেল্ট বাঁধা, নারীদের জন্য আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা ইত্যাদি। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তহবিল গঠনেরও বিধান রাখা হয়েছে। এখন খসড়াটি জাতীয় সংসদে যাবে অনুমোদনের জন্য। 

তবে এক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, আইনটি সংসদে অনুমোদনের আগেই সংশ্নিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে এ খসড়া নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষভাবে তরুণ প্রজন্মের কথাও এক্ষেত্রে শোনার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমরা মনে করি। বিশেষ করে বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের কোটি কোটি ছাত্রছাত্রীর কথা- যারা গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাসের চাপায় দুই কলেজ ছাত্রছাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে রাজপথে নেমে এসেছিল স্বতঃস্ফূর্তভাবে। যারা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, সব সড়ক দুর্ঘটনাই একই মাত্রার নয়। যা চালকদের পক্ষ থেকে ‘অনিচ্ছাকৃত’ বলে দাবি করা হয়ে থাকে; বরং এসব দুর্ঘটনার অধিকাংশই যে চালকদের বেপরোয়া চালনার পরিণতি এবং কোনো কোনোটি দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া ‘ইচ্ছাকৃত’ দুর্ঘটনার নামান্তর তা শিক্ষার্থীদের চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা, ফিটনেস পরীক্ষা, গাড়ির লাইসেন্স পরীক্ষা ইত্যাদির মধ্যদিয়ে প্রকাশ হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়-মহাবিদ্যালয়ের শিশু-কিশোররা চালক ও গাড়ির লাইসেন্স পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখতে পায়, সাধারণ গাড়ি ছাড়াও সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সমাজে বিশিষ্টজন হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের যানবাহনেরও নেই বৈধ কাগজপত্র, চালকদের নেই লাইসেন্স। আমরা সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের নিয়ে অজস্রবার লিখেছি। দুর্ঘটনার জন্য ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি, চালকদের বেপরোয়া মনোভাব, নিম্নমানের সড়কপথ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। কিন্তু এর বাইরেও যে সড়কপথে কত ধরনের নৈরাজ্য-অনিয়ম-দুর্নীতি রয়েছে, সেটা তো শিক্ষার্থীদের ওই আন্দোলনের মধ্যদিয়েই দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট হয়েছে। আমাদের প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রাজনীতিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন যা পারেনি, সেটা তরুণ প্রজন্ম করে দেখাল।

তাদের উদ্দেশে আমাদের লাখো কোটি সালাম। আমরা এখন আশ্বস্ত হতে চাই যে, খসড়া আইনটি সংশ্নিষ্ট সবার মতামত ধারণ করে আরও উন্নত হবে, সে বিষয়টিও সরকারের আমলে নেওয়া উচিত। আর এ কথাও ভুলে গেলে চলবে না যে, আইন থাকলেই তা কার্যকর হবে, এরকমও সর্বক্ষেত্রে নজির নেই। এখানে আইনের পক্ষপাতহীন অবিচল প্রয়োগ হচ্ছে কী-না সেটাই দেখতে হবে সবার আগে। বিষয়টিতে শেষপর্যন্ত সরকার যে মনোযোগী হওয়াতেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বেশিদূর পর্যন্ত যেতে পারেনি এবং এতে তৃতীয় কোনো শক্তি প্রবেশ করার সুযোগ পায়নি, সেটাই স্বস্তির বিষয়।

Ads
Ads