ঋণখেলাপি-বিলখেলাপি: সজাগ থাকতে হবে ইসিকে

  • ১৬-Nov-২০১৮ ০৬:০০ অপরাহ্ন
Ads

:: ড.কাজী এরতেজা হাসান ::

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের ব্যাংকগুলোতে ঋণের আবেদনের হিড়িক পড়ে গেছে। যাদের অনেকেই আবার ঋণখেলাপি। বিলখেলাপি, ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য অযোগ্য সেটা ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) বলা আছে। তবে ওই সময়ে ঋণখেলাপি ও বিলখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তখন সমাজে এতো ঋণখেলাপি, বিলখেলাপি ছিল না। কাজেই সেই সময়ে এটা যতটা না প্রয়োজনীয় ছিল, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর অনেক কিছু সংশোধন করা হলেও সংশ্লিষ্ট ধারা বাতিল কিন্তু বাতিল করা হয়নি। তারপরও ঋণখেলাপি ও বিলখেলাপিরা নানা কারসাজি করে আইনটি পুরোপুরি বাতিল করতে নানা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এই মহলটি ফের তৎপর হয়ে উঠেছে। আইনানুযায়ী কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইলে তাকে ব্যাংকঋণ নিয়মিতকরণ করতে হবে, যার শর্ত হলো মোট ঋণের অন্তত ১০ শতাংশ শোধ করা। ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে বলা হয়েছিল, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার অন্তত সাত দিন আগে ঋণ পুনঃতফসিল করতে হবে। তবে নির্বাচন কমিশন সেটি সংশোধন করে ঋণখেলাপিদের জন্য কিছুটা উদারতা দেখিয়েছে। এ জন্য প্রার্থীর ব্যক্তিগত ঋণ ও বিলের ক্ষেত্রে সাত দিনের সময়সীমা ঠিক রাখলেও প্রতিষ্ঠানের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগের দিন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। আর এই সুযোগই নিচ্ছেন ঋণখেলাপিরা। যাদের সবাই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়েছেন।

আইনগত এই ছাড় সত্ত্বেও খেলাপি ঋণগ্রহীতারা ঋণ পরিশোধ না করে ঋণ আদালতে মামলা ঠুকে নির্বাচনী বাধা ঠেকিয়ে দিতে পারেন। অন্য সময় এ নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের সুযোগ থাকলেও তফসিল ঘোষণার পর সেটি থাকে না। পত্রিকার খবর থেকে জানা যায়, তফসিল ঘোষণার পর অনেক ঋণখেলাপি মনোনয়ন পাওয়ার জন্য নিজ নিজ দলের অফিসে বায়না ধরছেন। অনেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ও জমা দিয়েছেন। অবশ্য বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিকের অধিকার আছে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার। কিন্তু তাই বলে ১৯৭২ সালের আরপিওকে কিছুতেই উপেক্ষা করা যাবে না। নির্বাচন কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আইন সংশোধন না করলে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আগেই হয়তো ঋণখেলাপিরা ঋণ পুনঃতফসিল করতেন। এরপর তারা মনোনয়ন না পেলেও ঋণের একাংশ শোধ হতো। এখন ওই ঋণখেলাপিরা শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। আর এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, পঁচাত্তরের পট পরিবর্তনের পর যতো সরকার এসেছে তাতে দেখা গেছে রাজনীতি ব্যবসায়ীরা নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। তবে তাদের সবাইকে ঋণখেলাপি বলা যাবে না। 

তবে যখন দেখি এই প্রার্থী হওয়ার তালিকায় হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণগ্রহীতা থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদে প্রকাশিত শীর্ষ ১০০ খেলাপির তালিকারও কেউ কেউ আছেন তখন আমাদের গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্যই সেটা দুশ্চিন্তার বিষয়। পরিতাপের বিষয় যে, নির্বাচনী ইশতেহারে সব দলই আর্থিক খাতে ক্লিন ইমেজ রাখার কথা বললেও বাস্তবে কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর রাজনৈতিক দল সেটি বেমালুম ভুলে যায়। এই ভুলে যাওয়ার প্রবণতা যত দিন থাকবে, ঋণখেলাপিদের হাতে দেশের অর্থনীতি ও জনগণ জিম্মি হয়ে থাকবে। 
আমরা চাইবো এই ঋণখেলাপি-বিলখেলাপিদের রাহুগ্রাস থেকে দেশ মুক্ত থাকুক। যেহেতু বর্তমান সরকার দুর্নীতি হ্রাসের ক্ষেত্রে অনেক আন্তরিক কাজেই আমরা প্রত্যাশা করবো, এ দলটিতে প্রার্থী হতে যেন কোনো ঋণখেলাপি-বিলখেলাপি প্রশ্রয় না পায়। 

Ads
Ads