আইএলও প্রতিবেদন: বাড়ছে কর্মসংস্থান, বাড়ছে বেকারও

  • ১৭-Nov-২০১৮ ০৬:০০ অপরাহ্ন
Ads

:: ড.কাজী এরতেজা হাসান ::

বাংলাদেশে কর্মসংস্থান বাড়লেও বেকারের হার কমেনি। বরং গত কয়েক বছরে  দেশে কর্মসংস্থান বাড়লেও বেকার মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। ফলে  বেকারত্বের হার বেড়েছে। বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বাড়ছেই। মাত্র সাত বছরে এই হার দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, উচ্চশিক্ষা এখন আর কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। তরুণরা যত বেশি পড়ালেখা করছেন, তাদের তত বেশি বেকার থাকার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। দেশে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি। ফলে অনেকে বাধ্য হয়েই অপেক্ষাকৃত নিম্ন পদে চাকরি নিতে বাধ্য হচ্ছে বা চাকরি পেতে নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) আঞ্চলিক কর্মসংস্থান নিয়ে এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

‘এশিয়া-প্যাসিফিক এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল আউটলুক-২০১৮’ শীর্ষক এই প্রতিবেদন গত শুক্রবার প্রকাশ করা হয়। এতে ২০০০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলের ২৮টি দেশের বেকারত্ব, তরুণদের কর্মসংস্থান, নিষ্ক্রিয় তরুণের হার, আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান, কর্মসন্তুষ্টি ইত্যাদির তুলনামূলক চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব ২০১০ সালের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে ২০১৭ সালে ১২ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্ব ১০ দশমিক ৭ শতাংশ, যা এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ২৮টি দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বাংলাদেশের ওপরে আছে কেবল পাকিস্তান। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ব্রিটিশ-ভারত থাকা কালে এই দুটো দেশই ভারতের সঙ্গে না থাকার ব্যাপারে ম্যান্ডেট দিয়েছিল। আর এই দুটো দেশই বহুক্ষেত্রেই বর্তমানে বিশাল ভারতের চেয়ে পিছিয়ে আছে। মনে করা হয়েছিল, দেশ স্বাধীনের পর থেকে বাংলাদেশ সেই চক্রব্যুহ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হবে। কোনোই সংশয় নেই যে বর্তমানে আমরা পাকিস্তানের চেয়ে বহুক্ষেত্রেই এগিয়ে গেছি।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভারতের চেয়েও। অর্থনৈতিক উন্নতিতেই এর প্রমাণ। তারপরও কিন্তু বেকারের হার কমছে না। একদিকে কর্মসংস্থান যেমন বাড়ছে, অন্যদিকে বেকারের সংখ্যাও বাড়ছে। বৈদেশিক শ্রমবাজারে প্রচুর লোক প্রেরণ করেও এই বেকারের হার কমানো যাচ্ছে না। তার ওপর বৈদেশিক শ্রমবাজারও সাম্প্রতিককালে সংকুচিত হয়ে আসছে ক্রমশ। বাংলাদেশের তরুণদের বড় অংশ আবার নিষ্ক্রিয়। যা আবার এদেশের মানুষের এই আলস্যদোষ অভ্যাসগত কারণেই পুরোনো। তারা কোনো ধরনের শিক্ষায় যুক্ত নন, প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন না, আবার কাজও খুঁজছেন না। দেশে এমন তরুণের হার ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ। মেয়েদের মধ্যে এই হার বেশি, ৪৫ শতাংশের কাছাকাছি।
আইএলওর মানদ- অনুযায়ী, সপ্তাহে এক ঘণ্টা কাজ করলেই একজন ব্যক্তি আর বেকারের তালিকায় থাকেন না।
আইএলওর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে দেড় যুগ আগে ২০০০ সালে সার্বিক বেকারত্বের হার ছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০১০ সালে তা ৩ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০১৩, ২০১৬ ও ২০১৭ সালের হিসাবে এই হার একই থাকে (৪ দশমিক ৪ শতাংশ)। বাংলাদেশে পুরুষের ক্ষেত্রে বেকারত্ব ৩ দশমিক ৩ শতাংশ ও নারীর ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৮ শতাংশ।

তার মানে প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে বেকারের হার কিছুতেই কমতির দিকে যাচ্ছে না। বরং বাড়তির দিকেই যাচ্ছে। যদিও খুব একটা বেশি হারে বাড়ছে না। তারপরও আমরা বলবো যেখানে জিডিপির হার বাড়ছে সেটা কেন বেকারত্বের হারের ওপর প্রভাব পড়ছে না? এখন বাংলাদেশের যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, তা বাড়তি হারে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কতটুকু ভূমিকা রাখছে, সেটা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আবার তরুণদের যে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, তা কর্মসংস্থানে কাজে লাগছে কি না, সেটাও প্রশ্নসাপেক্ষ বলে আমরা মনে করি। কাজেই মোট দেশজ উৎপাদনের ফল যেন দেশের প্রতিটি মানুষের মাঝে পৌঁছে যেতে পারে, সেই কর্ম পরিবেশও প্রত্যাশিত।
 

Ads
Ads