সামরিক সামর্থ্যে বাংলাদেশ: এই উন্নয়নের ধারা চলমান রাখতে হবে

  • ২২-Nov-২০১৮ ০৬:০০ অপরাহ্ন
Ads

:: ড.কাজী এরতেজা হাসান ::

সৃজনশীল মানুষের সম্ভাবনা নিয়ে কোনোভাবেই সংশয় প্রকাশ করা ঠিক নয়। আজকে যে জনগোষ্ঠী নানা সুযোগ-সুবিধার অভাবে পিছিয়ে আছে কালকে সে জনগোষ্ঠী এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে না, এ নিয়ে কারোরই নিশ্চয়তামূলক আগাম নেতিবাচক ভবিষ্যদ্বাণী করা ঠিক নয়। অথচ, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে দেশটি সদ্য স্বাধীন হলো সেই দেশটিকে নিয়েই কিনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিপাবলিকার দলের নেতা, ১৯৭৩ সালে লে ডাক থো-এর সঙ্গে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হেনরি কিসিঞ্জার তির্যক কটাক্ষ করে বলেছিলেন, ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’। অর্থাৎ এ দেশটির কোনোই ভবিষ্যৎ নেই বলে তিনি আগাম ভবিষ্যদ্বানী করেছিলেন। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী একজন ব্যক্তি কী করে এমন ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারেন তা আমাদের অবাক না করে পারে না। তবে বিশ্বের অনেকেই তার ওই নোবেল প্রাপ্তি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করেন। লে ডাক থো সেই পুরস্কার প্রত্যাখান করেন। ৯৫ পেরনো সেই কিসিঞ্জার কি তার সে বক্তব্যের জন্য অনুতাপ করছেন কি-না জানি না। তবে তার সেই ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণিত হয়েছে। যে দলটির কারণে তিনি বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলেছিলেন, আশ্চর্য যে সেই দলটির নেতৃত্বেই আজ বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং সগৌরবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অঙ্গীকারারবদ্ধ।

তাই আজ বিশ্বের অনেক বড় নেতা, থিংকট্যাংক, অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করছেন। বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। মূলত বর্তমান সরকারের গত ১০ বছরে বাংলাদেশে উন্নয়নের যে গতিধারা সূচিত হয়েছে, তা কীভাবে সম্ভব হয়েছে, সেটিই এখন অনেকের কাছে বিস্ময়ের ব্যাপার। অবকাঠামো খাতে বিপ্লব সাধিত হয়েছে। বিগত জোট সরকারের আমলের মতো বিদ্যুতের অভাবে যখন তখন কলকারখানা বন্ধ  হয়ে যায় না। গড়ে উঠছে নতুন নতুন কলকারখানা। দ্রুত বাড়ছে কর্মসংস্থান। দেশের চাহিদা মিটিয়ে অনেক পণ্য বিদেশে রফতানি হচ্ছে। রফতানি আয় ৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি। দারিদ্র্যের হার ৪০ থেকে ২১ শতাংশে নেমে এসেছে। উন্নয়নের সূচকগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের চেয়ে ভালো। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে আজ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনই এক পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে গত বুধবার উদ্যাপিত হলো সশস্ত্র বাহিনী দিবস। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বিকেলে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নের মতো করে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত করে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই। আগামীর বাংলাদেশ হবে সুন্দর, উন্নত ও সমৃদ্ধ। কাজেই আমি এটুকুই বলব, আমি এগিয়ে যেতে চাই যতই অন্ধকার আসুক, ঘন দুর্যোগ আসুক, যতই গভীর হোক পথ, এগিয়ে যাওয়ার পথ করে নিতেই হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘দেশের উন্নয়নে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। আমরা কতটুকু সফল হয়েছি, তা দেশবাসী বিবেচনা করবে। সামনে নির্বাচন। জনগণ ভোট দিলে উন্নয়নের সেই ধারাকে আরো এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাব। সুযোগ না পেলেও কোনো আক্ষেপ থাকবে না।’ এ তো একজন খাঁটি নেতার সহজসরল উক্তি।

বাংলাদেশ শুধু যে অর্থনৈতিকভাবেই এগিয়েছে, তা নয়। গণতন্ত্র, সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনসহ সামাজিক সূচকগুলোতেও বাংলাদেশের অভাবনীয় গতি এসেছে। ভারতের সঙ্গে ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক অনেক বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক হয়েছে। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে বিবাদ মিটিয়ে বিশাল সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ব্লু ইকোনমি সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পরিবর্তিত অবস্থায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়টিও জরুরি হয়ে উঠেছে। গত ১০ বছরে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকেও ব্যাপক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোর সক্ষমতা অনেক ভালো। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে দুটি অত্যাধুনিক সাবমেরিনসহ অনেক জাহাজ ও সরঞ্জাম। বিমানবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানসহ সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতেও অত্যাধুনিক ট্যাংক, ক্ষেপণাস্ত্র, এভিয়েশন শাখাসহ বহু সামরিক সরঞ্জাম যুক্ত হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী এখন স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় সমর্থ্য। যদিও সামরিক খাতের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আর তাই প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, সশস্ত্র বাহিনীর এই আধুনিকায়ন অব্যাহত থাকবে। সামরিক বাহিনীগুলোর শক্তি বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই অতীতের যে কোনো সরকারের আমলের চাইতে দেশের সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন হয়েছে।

অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম যুক্ত হয়েছে। এখন এই অর্জনকে আরো সুসংহত করতেই আমরা আশা করবো আগামীতে প্রকৃত দেশপ্রেমিক দলকেই জনগণ পুনঃনির্বাচিত করবে। উন্নয়নের যে গতিধারা চলছে, তা অব্যাহত রাখার স্বার্থে এবং দেশকে উত্তরোত্তর এগিয়ে নিতে এর কোনোই বিকল্প হতে পারে না বলেই আমরা মনে করি।

Ads
Ads